ভেঙে পড়ে আছে একের পর এক বাড়ি : মরক্কোয় ভূমিকম্প

Comments · 343 Views

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ভূমিকম্প হয়।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এ ভূমিকম্প হয়। মরক্কোর ছোট শহর অ্যামিজমিজে উদ্ধারকারীরা রবিবার ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লোকজনকে বের করতে হিমশিম খাচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ১২২ জন।

আমিজমিজে মাত্র ১৪ হাজার মানুষ বাস করে। সেখানে একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তখন আটকে পড়া মানুষের জীবনের আশা প্রায় নেই।

শহরের বাসিন্দা নাইমা বলেন, 'আমার প্রতিবেশী অন্তঃসত্ত্বা ছিল। সে এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। তার জন্য সমানভাবে প্রার্থনা করছি।'

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আমিজমিজ থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে। এই অবস্থা সেখানে।

যাওয়ার উপায় নেই
উদ্ধারকারীরা ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের খুব কাছের শহর ও গ্রামে যেতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পাহাড়ী শহরে যাওয়ার একমাত্র উপায় হয় হাঁটা বা গাধায় চড়ে। সেই রাস্তারও বেহাল দশা।

জার্মানির হেনরিখ ফাউন্ডেশনের রাবাট প্রধান আঞ্জা হফম্যান বলেন, "ওই জায়গাগুলো খুবই প্রত্যন্ত অঞ্চলে।" সেখানে যাওয়া খুব কঠিন। সেখান থেকে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে সাধারণত চার ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হাসপাতালও তেমন আধুনিক নয়।'

তিনি বলেন, 'ওখানকার রাস্তা খুবই সরু। এখন সেই সড়কটিও ভূমিকম্পের কারণে যানজটহীন অবস্থায় নেই। তাই সেখানকার পরিস্থিতি কল্পনা করাও ভয়ের।'

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি গ্রামের বাসিন্দা আবদেল আলী হারিমিস জানান, তাদের গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার বাস করত। ভাঙা ঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে অনেকে। ভূমিকম্প আমাদের সব নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টারও অবতরণের জায়গা পাচ্ছে না।

স্থানীয় নারী নেজা বলেন, তারা কোনো সাহায্য পাননি। রাতে রাস্তার পাশে ঘুমানো। পুরুষরা জিনিসপত্র উদ্ধার করতে বাড়িতে গেল।

মৃতের সংখ্যা বাড়বে
পাশের গ্রামের বাসিন্দা হিসাম লাহসেন জানান, তার গ্রামের সবকিছু ভেঙে পড়েছে। সেখানে অন্তত শতাধিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়বে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মাকারেস থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে। তা সত্ত্বেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাকারেস সিটি সেন্টারের একজন কাফির ওয়েটার মুরাদ বলেন, 'যখন ভূমিকম্প হয়, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ বোমা ফেলেছে।'

ক্যাফেতে অনেক লোক আছে। একে একে সবাইকে বের করে রাস্তায় দাঁড় করানো হয়। মুরাদ বলেন, 'শনিবার থেকে আবার অনেক রেস্টুরেন্ট খুলেছে। প্রচুর মানুষ আসছে। জীবন থেমে থাকে না।'

আমি বেশ কিছুদিন ধরে ত্রাণ খুঁজছি
মারাকেশ শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ফেসবুকে লাইভ ছিলেন নাজমি। তিনি বলেন, 'শহরের অনেক মানুষ বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন বা তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

পুরান শহরের অবস্থা বেশ খারাপ। উদ্ধারকারী ছাড়া কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।'

তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মরক্কোর জনগণ ঐক্যবদ্ধ। সবাই এগিয়ে এসেছে। তারা কোনো না কোনোভাবে সাহায্য করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই জনগণের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হচ্ছে সরকারকে।

Comments